শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন—এমন আলোচনা, ‘যমুনায় থাকার’ দাবি ঘিরে নতুন গুঞ্জন
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আবারও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা বিভিন্ন মাধ্যমে সামনে আসার পর নতুন করে নানা দাবি ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবিতে বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁকে নিরাপত্তার কারণে সরকারি বাসভবন যমুনায় রাখা হতে পারে এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো প্রত্যাহারের বিষয়েও ভারতের পক্ষ থেকে দাবি রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি ঘোষণা পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি রাজনৈতিক ও আইনি বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে ভারতের কাছে তাঁর প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের অনুরোধ প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও শেখ হাসিনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুকূল কূটনৈতিক পরিবেশের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।
শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাঁর নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তিনি কোথায় থাকবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর আইনি অবস্থান কী হবে—এসব প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার বিষয়।
তবে কোনো ব্যক্তির দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা প্রত্যাহার—দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। মামলা প্রত্যাহার বা বিচারিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনতে হলে সংশ্লিষ্ট আইন ও আদালতের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।
ফলে “ভারতের শর্তে সব মামলা প্রত্যাহার” বা “যমুনায় থাকবেন”—এ ধরনের দাবিকে আপাতত নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে না দেখে সম্ভাব্য রাজনৈতিক আলোচনা বা দাবি হিসেবে দেখা উচিত। সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এলেই প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।