বিদ্যুৎ নেই, লোডশেডিং নিয়ে অফিসে কল—প্রতিনিধিরা সেই কল রেকর্ড করে বানালেন ভিডিও কনটেন্ট!
বিদ্যুৎ না থাকা ও লোডশেডিংয়ের সমস্যা জানাতে বিদ্যুৎ অফিসে ফোন করেছিলেন এক গ্রাহক। অভিযোগ জানাতে করা সেই ফোনকলের অংশ রেকর্ড করে ভিডিও কনটেন্ট তৈরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় সমস্যার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট অফিসে ফোন করেন ওই ব্যক্তি। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুৎ সরবরাহ কখন স্বাভাবিক হবে এবং সমস্যার কারণ কী—তা জানা। কিন্তু ফোনে কথা বলার অংশ পরে রেকর্ড করে ভিডিও আকারে প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, গ্রাহকসেবা নিতে ফোন করা একজন মানুষের ব্যক্তিগত কথোপকথন তাঁর অনুমতি ছাড়া রেকর্ড করে প্রকাশ করা কতটা গ্রহণযোগ্য। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তির কণ্ঠ বা পরিচয় ব্যবহার করে কনটেন্ট তৈরি করা হলে তাঁর গোপনীয়তার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে যদি বলা হয় যে জনস্বার্থে বা তথ্য প্রকাশের উদ্দেশ্যে কলটি রেকর্ড করা হয়েছে, তাহলেও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। প্রয়োজনে পরিচয় গোপন রেখে সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরা যেতে পারে।
লোডশেডিং নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি নতুন কোনো বিষয় নয়। বিদ্যুৎ না থাকলে বাসাবাড়ির পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশাজীবীরাও সমস্যায় পড়েন। তাই গ্রাহকের অভিযোগ দ্রুত সমাধান করাই বিদ্যুৎ বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
এদিকে ফোনকল রেকর্ড করে ভিডিও বানানোর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ বিষয়টিকে কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। তবে গ্রাহকের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করা এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের গোপনীয়তা রক্ষা—দুই বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।